দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে। মূলত ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা, দ্রুত নগরায়ণ ও খনিজ সম্পদসহ উৎপাদন শিল্পের বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব উপসাগরীয় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। খবর এপি।
ক্লিন এয়ার টাস্কফোর্সের গত মাসের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে আফ্রিকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ১০১ দশমিক ৯ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছে।
নাইরোবিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রসবাউন্ডারি এনার্জির প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ তিলিয়ার্ড বলেন, ‘আফ্রিকা এমন একটি অঞ্চল, যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি নিশ্চিত। সাময়িক অস্থিরতা ব্যক্তিগত লেনদেনে বিলম্ব ঘটাতে পারে, তবে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাময়িক ঝুঁকির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার দিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।’
বর্তমানে আফ্রিকার প্রায় ৬০ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ নেই। সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ না বাড়িয়ে সৌর, বায়ু ও হাইব্রিড বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে দেশগুলো এখন বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করছে। এ সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে উপসাগরীয় বিনিয়োগকারীরা, যারা তেল ও গ্যাসের বাইরে বহুমুখী আয়ের উৎস তৈরি করতে আগ্রহী।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক লুউ নেলসন জানান, এসব বিনিয়োগ মূলত বাস্তবসম্মত জাতীয় স্বার্থ এবং কৌশলগত মুনাফার দ্বারা পরিচালিত হয়। দীর্ঘমেয়াদি এসব প্রকল্প বহু বছর ধরে পরিকল্পিত হওয়ায় যুদ্ধের কারণে এতে বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।